চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারল বাংলাদেশ
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে দক্ষিণ কোরিয়া। টানা চার হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা বাংলাদেশ এখন পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে।
টানা চতুর্থ হার; এখন পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে লাল-সবুজরা
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে আবারও বড় হার দেখল বাংলাদেশ হকি দল। বড় ব্যবধানে হারের বৃত্ত থেকে যেন কিছুতেই বের হতে পারছে না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। রোববার চতুর্থ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলের ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ।
ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে অলিম্পিয়ান সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম কোয়ার্টারে ১-০ গোলে লিড নেয় তারা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও এক গোল করলে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। আর শেষ কোয়ার্টারে দক্ষিণ কোরিয়া আরও এক গোল করলে ৫-০ গোলের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলকে।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর এবার কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের পরাজয় — টানা চতুর্থ হার। বিশ্ব হকি র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ২১তম, আর বাংলাদেশ রয়েছে ২৭তম স্থানে। র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধান মাঠের খেলাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সঠিক পথেই আছেন বলে মনে করেন অধিনায়ক
টানা হারের পরও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম। টি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, দল সঠিক পথেই রয়েছে। তার মতে, প্রতিপক্ষ সুযোগগুলো কাজে লাগালেও বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে — ফিনিশিংয়েই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। হকিতে এক মিনিটে তিন গোল সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি, অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের মানসিকতা ধরে রাখতে চান দল।
এই সফরের আগেই বাংলাদেশ খেলে এসেছে জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে। সেখান থেকে সরাসরি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো কঠিন আসরে নামতে হওয়ায় খেলোয়াড়দের ওপর ধকলও কম নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এত বড় ব্যবধানে হার হকির ভিত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত
উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের কাছে ১-০ গোলে হার। তৃতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ গোলের পরাজয় — ওই ম্যাচে ১৪তম মিনিটে আবু কামাল আজরাইয়ের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া; পরে পেনাল্টি কর্নার থেকে আখিমুল্লাহ আনোয়ার ও ৫০তম মিনিটে আয়মান রোজেমির গোলে ব্যবধান বাড়ে। অর্থাৎ চার ম্যাচে বাংলাদেশের জালে ঢুকেছে ২৫টি গোল।
দলের গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন বিপ্লব কুজুর ও আশরাফুল হক সাদ — টানা বড় হারের ম্যাচগুলোতে তাদের সামনে পরীক্ষা ছিল কঠিন। টুর্নামেন্টের আগে চীনে বেশ কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল; অধিনায়ক আশরাফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, এশিয়ান গেমসেও শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তার দাবি, আক্রমণের দিক থেকে দল প্রতিপক্ষের প্রায় সমমানের খেলেছে — পার্থক্য গড়ে দিয়েছে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা। তবে টানা চার ম্যাচে ২৫ গোল হজমের পর এই দাবির পক্ষে মাঠের প্রমাণ দেখানোর চাপ এখন দলের ওপর। বাংলাদেশ হকির জন্য এই টুর্নামেন্ট শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর খেলার ধরন, গতি ও কৌশল কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছে দল; এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঘরোয়া কাঠামোর দুর্বলতা দূর করতে পারলেই ভবিষ্যতে ব্যবধান কমানো সম্ভব।
সামনে চীন ম্যাচ ও পঞ্চম স্থান নির্ধারণী
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের পঞ্চম ও শেষ লিগ ম্যাচে চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকায় এখন পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচেই লড়বে। জানা গেছে, ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। শেষ দুটি ম্যাচে অন্তত লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাইবে আশরাফুল ইসলামের দল।
সূত্র: আমার নিউজ, টি স্পোর্টস
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।