এআই বিনিয়োগে সংশয়: তহবিল লক্ষ্যমাত্রা কমালো ওপেনএআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয়ের মধ্যে নতুন তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১০ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছে ওপেনএআই। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে সিএনবিসি জানিয়েছে, কোম্পানিটি এখন সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে আগে লক্ষ্য ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার। কোম্পানির মূল্যায়নও ১.৪ ট্রিলিয়ন থেকে কমে ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।
৩০ বিলিয়ন থেকে কমে ২০ বিলিয়ন ডলার; মূল্যায়নও নামল ১.২৫ ট্রিলিয়নে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান সংশয়ের মধ্যে নতুন তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১০ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছে ওপেনএআই। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে সিএনবিসি জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন অর্থায়ন রাউন্ডে সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে আগে লক্ষ্য ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। সিএনবিসি শনিবার (৩১ অক্টোবর) খবরটি নিশ্চিত করে জানায়, অর্থায়ন রাউন্ডটি এখনো চলমান, তাই চূড়ান্ত অঙ্ক পরিবর্তন হতে পারে। একটি সূত্রের বরাতে সিএনবিসি জানায়, বিনিয়োগকারীদের এই রাউন্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ সময় ছিল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর)। কয়েকজন বিনিয়োগকারী তাদের বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।
নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ওপেনএআইয়ের পোস্ট-মানি মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কম। সিএনবিসির আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা কোটিউর পাশাপাশি এই রাউন্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এআই বুদবুদ-ভীতির মধ্যে টেক শেয়ারে ধস
ওপেনএআইয়ের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ চলছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও জিপিইউ কেনায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশাল ব্যয় আদৌ পর্যাপ্ত মুনাফা দেবে কি না — এই প্রশ্নে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় বাড়ছে বলে খবরে বলা হয়েছে। এআই খাতে বিনিয়োগের টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সপ্তাহেই প্রশ্ন তুলেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের শেষ সময়সীমা ছিল গত শুক্রবার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৩০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ২০ বিলিয়ন ডলার করা হয় বলে খবরে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআইয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর পেছনে দুটি কারণ কাজ করেছে — এআই শেয়ারে ধস এবং প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকের আসন্ন তালিকাভুক্তি। খবরে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি নাসডাকে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে অ্যানথ্রপিক। একই বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে তহবিল চাইছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী এআই ল্যাব।
একটি প্রতিবেদনের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, গত মার্চের অর্থায়ন রাউন্ডে ওপেনএআই ১২২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে ৮৫২ বিলিয়ন ডলারের পোস্ট-মানি মূল্যায়ন পেয়েছিল। সেই হিসাবে নতুন রাউন্ডে লক্ষ্যমাত্রা কমলেও কোম্পানির মূল্যায়ন আগের রাউন্ডের তুলনায় অনেক বেশি থাকছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআইয়ের এই অর্থায়ন রাউন্ডের দিকে নজর ছিল গোটা প্রযুক্তি বাজারের। কারণ ডেটা সেন্টার ও চিপে বিপুল বিনিয়োগের পর এআই কোম্পানিগুলোর আয়ের ধারা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি শেয়ারের এই ধসের মধ্যে নাসডাক সূচকও চাপের মুখে রয়েছে।
এআই খাতে ঋণনির্ভর বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে গত অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা এআই-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিলেন। অ্যানথ্রপিকের ৬৩ বিলিয়ন ডলারের চিপ অর্থায়ন চুক্তিতে প্রধান বিনিয়োগকারী ব্ল্যাকস্টোন সতর্ক করেছে, প্রাথমিক পাবলিক অফারিংয়ের (আইপিও) পর কোম্পানিটি বিনিয়োগ-যোগ্য ক্রেডিট রেটিং পেতে হিমশিম খেতে পারে।
উল্লেখ্য, ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে খবরে বলা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা কমালেও ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন ওপেনএআইকে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে মূল্যবান বেসরকারি কোম্পানি হিসেবে ধরে রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এআই খাতে বিনিয়োগের এই সতর্ক বার্তা গোটা প্রযুক্তি বাজারের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
উল্লেখ্য, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান গত ২৭ অক্টোবর লাস ভেগাসে ওরাকল এআই ওয়ার্ল্ডে বক্তব্য দেন বলে খবরে বলা হয়েছে। এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও বিনিয়োগের ধারা এখন আরও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা। ওপেনএআইয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর এই ঘটনা গোটা এআই শিল্পের অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, সিএনবিসি, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।