চেজের স্পিনে ব্যাটিং ধস, দ্বিতীয় ইনিংসে বিপাকে বাংলাদেশ
মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন (শুক্রবার) শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ মোট লিড ১০৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজের ৩ উইকেটে ব্যাটিং ধসে পড়ে স্বাগতিকরা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টে তৃতীয় দিন (শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর) শেষে চাপে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ দলের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
দিন শেষে জাকের আলী ও নাঈম হাসান দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত আছেন। ম্যাচের চতুর্থ দিনে এই জুটির ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের লড়াই কতদূর এগোবে।
চেজের ঘূর্ণিতে ব্যাটিং ধস
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রোস্টন চেজ। অফস্পিন বোলিংয়ে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান ১৯ রানে ২ উইকেট নেন। এই দুই বোলারের দাপটে বাংলাদেশের টপ অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
মাত্র ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলাম ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তাওহিদ হৃদয় করেন মাত্র ২ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১০, লিটন দাস ৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৯ রানে আউট হন। ওপেনার তানজিদ হাসান ফেরেন শূন্য রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে এই ব্যাটিং ধসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দ্রুত বিদায়ে। শান্ত, লিটন ও মিরাজের মতো ব্যাটাররা কেউই ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। ফলে চাপ সামলানোর দায়িত্ব এখন পড়েছে তরুণ জাকের আলী ও অলরাউন্ডার নাঈম হাসানের কাঁধে। উল্লেখ্য, প্রথম ইনিংসে বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতেও লড়ছেন নাঈম। তার ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস দলকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
প্রথম ইনিংসের লড়াই
এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান সংগ্রহ করে। সাদমান ইসলামের ১০৫ রানের ইনিংস ছিল দলের মূল ভরসা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৫ রানে অলআউট হয়। ক্যারিবীয়দের হয়ে চন্দরপল ৫৬, ক্যাম্পবেল ৫৪ ও গ্রিভস ৪৬ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে নাঈম হাসান ৪ উইকেট নেন। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
দিনের অন্যান্য ঘটনা ও চতুর্থ দিনের সমীকরণ নিয়ে বলা যায়, তৃতীয় দিনে ফিল্ডিংয়েও হতাশ করেছে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক চেজের একটি সহজ ক্যাচ মিস করেন। এই মিসের খেসারত পরে দিতে হয়েছে দলকে, কারণ চেজই পরে বল হাতে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন।
প্রথম দুই দিনই আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ হয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিও ব্যাঘাত ঘটায়; দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ উইকেটে ৮৯ রান তুলেছিল, জন ক্যাম্পবেল ৬৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তৃতীয় দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল ৬ উইকেটে ২১৩ রানে; তবে লাঞ্চের পর মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। ওই ধসের নায়ক নাঈম হাসান — একই ওভারে তিনি ফেরান শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিক্যানকে, পরে জেইডন সিলসকেও আউট করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট; শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট পান।
পরে আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়।
চতুর্থ দিনের খেলা হবে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর)। হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ১০৬ রানের লিড নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। জাকের-নাঈম জুটি যত বেশি রান যোগ করতে পারবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য তত কঠিন হবে। তবে ক্যারিবীয় বোলারদের, বিশেষ করে চেজ ও ওয়ারিক্যানের ফর্ম বিবেচনায় কাজটা সহজ হবে না স্বাগতিকদের জন্য।
সূত্র: বাংলা টেলিগ্রাফ, বিডিক্রিকটাইম।
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।