এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ বেলা ১১টায় প্রকাশ হবে
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফল আজ শনিবার বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হবে। দেশের প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী এই ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে আজ। উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হবে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায়। দেশের প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী এই ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ফল ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির গত ২৭ অক্টোবরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ফল প্রকাশের তারিখ ও সময় চূড়ান্তভাবে জানানো হয়। কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে ফল পাওয়া যাবে।
এর আগে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত নতুন তারিখ অনুযায়ী আজ বেলা ১১টায় উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
কীভাবে জানবেন ফল
পরীক্ষার্থীরা তিনটি উপায়ে ফল জানতে পারবেন। প্রথমত, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহ করা যাবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট educationboardresults.gov.bd ও eduboardresults.gov.bd-এ রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ফল দেখা যাবে। তৃতীয়ত, মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে।
এসএমএসে ফল পেতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, তারপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, আবার স্পেস দিয়ে 2026 লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। যেমন: HSC DHA 123456 2026। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ফল দেখার সময় রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর হাতের কাছে রাখলে দ্রুত ফল পাওয়া সহজ হবে।
ফল প্রকাশের দিন বোর্ডের ওয়েবসাইটে একসঙ্গে অসংখ্য পরীক্ষার্থী ঢোকার কারণে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া না করে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করা অথবা এসএমএস পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার লিখিত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত থাকা পরীক্ষাগুলো শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বরে। খবরে বলা হয়েছে, এরপর খাতা মূল্যায়ন শেষে আজ একযোগে ফল প্রকাশ করছে সব শিক্ষা বোর্ড।
এইচএসসির ফলের ওপরই নির্ভর করছে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ। ফল প্রকাশের পরই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ভর্তি কার্যক্রমের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অভিভাবকরাও সন্তানের ফলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
পুনর্নিরীক্ষণ ও ভুয়া তথ্য নিয়ে সতর্কবার্তা
ফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে এই আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের নিয়মাবলি ও ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।
এদিকে ফল প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে 'পাসের হার ৫৩.২৩ শতাংশ' দাবি করে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। ফ্যাক্ট-চেকে ওই পোস্টের দাবি ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও বোর্ডের ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপরই আস্থা রাখা উচিত।
ফল জানার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে লেখার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঢাকা বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থীকে লিখতে হবে HSC DHA, তারপর নিজের রোল নম্বর ও 2026। একইভাবে অন্য বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর ব্যবহার করবেন।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে ফল প্রকাশের দিনটি পরীক্ষার্থীদের জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ফলের ভিত্তিতে আগামী দিনের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা সাজাবেন লাখো শিক্ষার্থী।
এর আগে ফল প্রকাশের তারিখ ২৯ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে ৩১ অক্টোবর করার ঘোষণা আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপেক্ষা আরও বেড়ে যায়। আজ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফলাফলকে ঘিরে সারাদেশে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। অনেক পরিবারেই ফল প্রকাশের সকালটা কাটে উৎকণ্ঠা আর প্রার্থনার মধ্যে; ভালো ফল পেলে অনেকের স্বপ্নপূরণের পথ আরও মসৃণ হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। ফল প্রকাশের পর অনেকেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি, ঢাকা ট্রিবিউন, প্রথম আলো।
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।