ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় ১৮৮৬ জন হাসপাতালে ভর্তি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৮৮৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তির মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ৭৫৫ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৪১৫ জনে।
ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ৭৫৫ জন ভর্তি; চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪১৫
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ১ হাজার ৮৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
বুলেটিন অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ৭৫৫ জন। অর্থাৎ, একদিনে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের।
ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে — ২৭২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৬৪ জন, বরিশাল বিভাগে ২২৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৯ জন, রংপুর বিভাগে ৭৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ মিলিয়েই একদিনের নতুন ভর্তির অর্ধেকের বেশি — ১ হাজার ২৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন, খুলনা বিভাগে ১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১ জন রয়েছেন। অর্থাৎ, মৃতদের দুই-তৃতীয়াংশই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ৪১৫ জনে।
বুলেটিনের তথ্য বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৯ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন — যা মোট ভর্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে ৬ হাজার ২৫১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একদিনে ১ হাজার ৮৮৬ জন নতুন ভর্তির এই সংখ্যা চলতি বছরের মোট ভর্তির তুলনায় উল্লেখযোগ্য। চিকিৎসাধীন ৬ হাজার ২৫১ জন রোগীর সেবা দেওয়া হাসপাতালগুলোর জন্য বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসা-বাড়ির ফুলের টব, টায়ার, খালি বোতল বা যেকোনো পাত্রে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং মশারি ব্যবহারও জরুরি।
জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা বা বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালগুলো থেকে পাওয়া দৈনন্দিন তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত এই বুলেটিন প্রকাশ করে থাকে।
সূত্র: টোব নিউজ
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।