এলডিসি উত্তরণ পেছানোর প্রস্তাব আজ জাতিসংঘে উত্থাপন
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর প্রস্তাব আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত হচ্ছে। প্রস্তাবটি পাস হলে নির্ধারিত সময়ের পরও আরও তিন বছর বাংলাদেশ বাণিজ্যসুবিধা ভোগ করতে পারবে।
জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর উরুগুয়ে প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে উত্থাপন করবে। এতে সমর্থন দিয়েছে ৭৭টি দেশ ও চীন। প্রস্তাব পাস হলে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য বাণিজ্যসুবিধা বহাল থাকবে।
সিডিপি ও ইকোসকের সুপারিশের ভিত্তিতে এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের এই দুটি সংস্থার সুপারিশে ভিত্তি করেই উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। অর্থাৎ এই সময়সীমার মধ্যে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত চূড়ান্ত করতে হবে।
এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বাজারে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা পেয়ে থাকে। এই সুবিধার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটির মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইইউর বাজারে। ফলে এলডিসি-উত্তর বাণিজ্যসুবিধা বহাল থাকা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যসুবিধা হারালে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর দাবি উঠছিল। আজকের প্রস্তাব সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।
এখন সবার দৃষ্টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবের ফলাফলের দিকে। প্রস্তাব পাস হলে বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর প্রস্তুতির সময় পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।