ডেঙ্গুতে আরও ১১ জনের মৃত্যু, হামেও প্রাণহানি
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৭ জন। মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যে এসব পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিদিন হাসপাতালগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন রোগীর সংখ্যাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, বমি ভাব — এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কামড়ে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির আশপাশে ফুলের টব, টায়ার, খালি বোতল বা যেকোনো পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত পানির পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং মশারি ব্যবহার করা জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।
এদিকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যুর খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাম প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
সূত্র: দেশি সংবাদমাধ্যম
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।