শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতসহ ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচি আজ শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। কর্মসূচির মূল দাবি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান।

শেয়ার করুন
জামায়াতসহ ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই লংমার্চ। উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে খবরে বলা হয়েছে।

কর্মসূচির মূল দাবি দুটি — জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। এই দুই দাবিকে সামনে রেখেই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

লংমার্চের পথ ও কর্মসূচি

লংমার্চের গাড়িবহর রাজধানী ছেড়ে পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা অতিক্রম করবে। এরপর বহর গোপালগঞ্জ পেরিয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে। কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লংমার্চের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

দীর্ঘ এই পথযাত্রায় বিভিন্ন জেলায় লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা বহরে যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লংমার্চের মাধ্যমে এই দুই দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলাই আয়োজকদের লক্ষ্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন, বর্তমান আমির মাওলানা রেজাউল করিম ও ফরিদপুর জেলা আমির মাওলানা বদর উদ্দিন।

নেতাদের বক্তব্য ও প্রশাসনের প্রস্তুতি

উদ্বোধনী সমাবেশে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণ বিএনপিকে 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে চিহ্নিত করবে। তার দাবি অনুযায়ী, গণভোটে প্রায় চার কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিল বলেই এই রায় উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঞ্জু সরাসরি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ক্ষমতায় থেকে গণভোটের রায় বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। তিনি আরও সতর্ক করেন, প্রতিশ্রুতি পূরণের আগেই বিএনপি ক্ষমতা হারালে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতার দায়ও তাদের কাঁধে যাবে — যা জুলাই সনদের অন্যতম কেন্দ্রীয় লক্ষ্য। পাশাপাশি গণভোটের রায় রক্ষায় বিরোধী নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন চলছে। তাদের অভিযোগ, গণভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের যে রায় এসেছে, তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সনদের শর্তগুলো বাস্তবায়নে সরকার যথেষ্ট অগ্রগতি দেখাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটেই ১১ দলের ঐক্যের এই লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

লংমার্চের প্রস্তুতি হিসেবে গোপালগঞ্জে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন, বর্তমান আমির মাওলানা রেজাউল করিম ও ফরিদপুর জেলা আমির মাওলানা বদর উদ্দিন।

বৈঠকে জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের একটি পাশ ব্যবহার করে বহর পরিচালনা করা হবে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার আশ্বাস দেন তারা।

অন্যদিকে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, লংমার্চ ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কড়া নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে বহরের পুরো পথে পুলিশের টহল ও নজরদারি থাকবে বলে জানা গেছে।

কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। দেশের রাজনীতিতে জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে; এই লংমার্চ সেই চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। লংমার্চের এই ঢেউ রাজধানীসহ সারাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে হচ্ছে।

সূত্র: বিবি২৪নিউজ, ঢাকা পোস্ট।

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়। শালীন ও বিষয়ভিত্তিক থাকুন।

প্রকাশ করা হবে না।

আমরা নিজেদের প্রতিবেদনের জন্য পেজভিউ ও ভিজিট গণনা করি, তবে শুধু আপনি মেনে নিলে। না বললে গণনা বন্ধ থাকে। বিস্তারিত