সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিমানবন্দরে পৃথক দুই অভিযানে ৬ সোনার ডিম জব্দ, মূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা

ঢাকা বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে ৬টি সোনার ডিম জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আবুধাবিগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে সোনা উদ্ধার করা হয়।

শেয়ার করুন
ঢাকা বিমানবন্দরে পৃথক দুই অভিযানে ৬ সোনার ডিম জব্দ, মূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা

বিজি-১২৭ ফ্লাইটের যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে উদ্ধার তিন ডিম

ঢাকা বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে ৬টি সোনার ডিম জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের একজন যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই ওই যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, এই সোনার ডিমগুলো আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। অর্থাৎ চক্রটি প্রথমে সোনা দেশে ঢুকিয়ে পরে আবার তা পাচারের চেষ্টা করছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। অপর অভিযানেও বাকি তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়। দুটি অভিযান মিলিয়ে মোট ৬টি ডিমের ওজন দাঁড়ায় ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম।

আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা, সোনার প্রকৃত উৎস এবং এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সোনা চোরাচালান রোধে বিমানবন্দরগুলোতে কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরদারি জোরদার রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন যাত্রীদের চিহ্নিত করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে নিয়মিত। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরে সোনার বার, অলংকার ও ডিম আকৃতির সোনা জব্দের ঘটনা ঘটেছে। চোরাচালানকারীরা নিত্যনতুন কৌশলে সোনা পাচারের চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সোনার বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রচলিত দর অনুযায়ী। জব্দ করা সোনা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আটক যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার ভ্রমণ রেকর্ড ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। সন্দেহভাজন যাত্রীকে বিমান থেকে নামানোর পর ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যাত্রী প্রোফাইলিং আরও জোরদার করা হবে।

সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অভিযানটি পরিচালিত হয় সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে। সিআইআইডির একটি দল আগে থেকেই বিজি-১২৭ ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজর রাখছিল। সন্দেহভাজন যাত্রীকে চিহ্নিত করার পর তাকে বিমান থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়; তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনটি সোনার ডিমের সন্ধান মেলে। তদন্তকারীদের ধারণা, যাত্রী একা এই পাচারচক্র পরিচালনা করেননি — তার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সোনা আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অর্থাৎ সোনা একবার দেশে ঢুকিয়ে পরে আবার তা বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল — এই 'ঘূর্ণায়মান' পাচারপথের সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদঘাটনই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। আটক যাত্রীর পাসপোর্টের ভ্রমণ রেকর্ড, টিকিট বুকিংয়ের তথ্য এবং যোগাযোগের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। এনবিআর জানিয়েছে, জব্দ করা সোনার বিষয়ে কাস্টমস আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: জাগরণ নিউজ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়। শালীন ও বিষয়ভিত্তিক থাকুন।

প্রকাশ করা হবে না।

আমরা নিজেদের প্রতিবেদনের জন্য পেজভিউ ও ভিজিট গণনা করি, তবে শুধু আপনি মেনে নিলে। না বললে গণনা বন্ধ থাকে। বিস্তারিত