রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চেয়েছেন। সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি উত্থাপন করেন তিনি
দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতি বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক, সামাজিক, জনমিতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে ভারী চাপ তৈরি করছে। এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে চীনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত শাহীন সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছাবে বাংলাদেশের উদ্বেগ
সাক্ষাতে লিউ হাইশিং বলেন, চীন এই সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছে দেবেন।
বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করে। লিউ হাইশিং প্রধানমন্ত্রীর কাছে শি জিনপিংয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শি জিনপিং এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের কাছে তাঁর শুভেচ্ছা পাঠান।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগের ঘোষণা
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। লিউ হাইশিং স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগের ঘোষণা নিয়ে যৌথ ঘোষণা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতি বেইজিংয়ের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। লিউ হাইশিং বলেন, আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সমর্থন করে চীন।
দলীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার
বৈঠকে উভয় পক্ষ সিপিসি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে দলীয় পর্যায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। লিউ বলেন, চীন এই সম্পর্ক আরও প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করতে চায়। দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। দলীয় পর্যায়ের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জিয়াউর রহমানের আমলে স্থাপিত ভিত্তি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে স্থাপিত হয়েছিল। এই বন্ধুত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এখন তাঁদের কাঁধে রয়েছে।
তিনি স্মরণ করেন, জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এই কর্মসূচি তখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং কৃষি খাতে গতি আনে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের সেই ধারাবাহিকতা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ কৃষকদের উপকারে আসবে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের পাশাপাশি পরিবেশও উপকৃত হবে।
উপস্থিত ছিলেন
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস-চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস-মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
চীনা প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন, সিপিসি আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সূত্র: টিবিএস (বিএসএস)।
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।