চীনকে রুখে দিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে প্রথম পয়েন্ট বাংলাদেশের
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে টানা চার হারের পর প্রথম পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ — রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে চীনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করেন অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম।
টানা চার হারের হতাশা কাটিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট — পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে আবার চীন
টানা চার ম্যাচে বড় হারের হতাশা কাটিয়ে এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অবশেষে পয়েন্টের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে সোমবার (২ নভেম্বর) চীনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছেন আশরাফুল ইসলামরা।
ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে অলিম্পিয়ান সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় মিনিটেই চেন বেনহাইয়ের গোলে এগিয়ে যায় চীন। এরপর প্রথম কোয়ার্টারজুড়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ সমতায় ফিরতে লড়াই চালায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তৃতীয় কোয়ার্টারে কাঙ্ক্ষিত পেনাল্টি স্ট্রোক আদায় করে নেয় লাল-সবুজের দল। সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম।
বাকি সময়ে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। টুর্নামেন্টে এটিই বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট — আসরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার খেলতে এসে প্রথম পয়েন্ট পেল দলটি। ২০২১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত অভিষেক আসরে সব ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।
ম্যাচের চিত্রটা অবশ্য সহজ ছিল না। প্রথম কোয়ার্টারে চীন একের পর এক আক্রমণ শানায়; বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়হাতে সেগুলো প্রতিহত করে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল চীন, কিন্তু গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের দাপটে আর গোল হয়নি। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ — সেই চাপেই আসে পেনাল্টি স্ট্রোক। চতুর্থ কোয়ার্টারে চীন সমতা ভাঙতে মরিয়া হয়ে ওঠে; পেনাল্টি কর্নার পেলেও বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।
এই ড্রয়ের গুরুত্ব বোঝা যায় ইতিহাসের দিকে তাকালে। ২০২১ সালে ঢাকায় এই টুর্নামেন্টের অভিষেক আসরে সব ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ — সেবার একটিও পয়েন্ট পায়নি দলটি। এবার দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরার নিশ্চয়তা মিলল। আর ড্রয়ের ম্যাচটিই ছিল পুল পর্বের শেষ — অর্থাৎ চাপের মুহূর্তে দলের সেরা পারফরম্যান্স বেরিয়ে এল।
ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে সবাই সবার মুখোমুখি হয়। বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো — উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় দলটি। পরের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে তুলনামূলক ভালো খেললেও ১-০ গোলের হার এড়ানো যায়নি। এরপর মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর পয়েন্টশূন্য ছিল বাংলাদেশ। চার ম্যাচে পয়েন্টশূন্য থাকায় শেষ ম্যাচটা ছিল সম্মান বাঁচানোর লড়াই — আর সেই লড়াইয়েই চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনল দলটি।
তবে এই ড্রয়ের পরও জয় ছাড়াই শেষ হলো রাউন্ড রবিন পর্ব। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকায় এবার পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। আর সেই ম্যাচেও প্রতিপক্ষ এই চীন — আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) আবারও তাদের মুখোমুখি হবে আশরাফুল ইসলামের দল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বিপক্ষে রেকর্ড বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল না। সেই প্রেক্ষাপটে সোমবারের এই ড্র খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন হকি বিশ্লেষকরা। পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এই আত্মবিশ্বাসকেই কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ — দুই দিনের ব্যবধানে একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার এই সুযোগে এবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে দল।
পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় পেলে টুর্নামেন্ট শেষ হবে স্বস্তির নোটে — ড্রয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রথম জয়ের স্বাদ পেতে চাইবে বাংলাদেশ। দুই দিন আগে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখিয়েছে; এবার আক্রমণভাগের ঝলকও দরকার। পুল পর্বের এই ড্র বাংলাদেশকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে — চাপের মুহূর্তে পয়েন্ট আদায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বুধবারের ম্যাচে জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ড্রয়ের ম্যাচে গোল করা অধিনায়ক আশরাফুলের ফর্মই হবে বাংলাদেশের বড় ভরসা।
সূত্র: জাগরণ নিউজ, আমার নিউজ, বারিন্দ পোস্ট
পাঠকের মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।