রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি, আর আরব দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। সরকার গঠনে এখন নির্ণায়ক ভূমিকায় আরব দলগুলো। এদিকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ইরানকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শেয়ার করুন
ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহু

সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকায় আরব দলগুলো; ইরানকে আলোচনার চিঠি দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, আর প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। চমক জাগিয়ে আরব দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।

১২০ আসনের কনেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে সরকার গঠনের প্রশ্নে এখন নির্ণায়ক ভূমিকায় উঠে এসেছে আরব দলগুলো। খবরে বলা হয়েছে, আরব দলগুলো নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে ইসরায়েলের রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নির্বাচনী ফলের পর কার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জোট সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। খবরে বলা হয়েছে, আরব দলগুলোর এই রেকর্ড সাফল্য ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানকে আলোচনার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিটি সরাসরি ইরানের সরকারকে উদ্দেশ করে পাঠানো হয়েছে এবং সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক সমস্যার সমাধান খোঁজার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অবসানের পর এই পদক্ষেপ এলো, যখন উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের উত্তেজনা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। চিঠিতে আলোচনার বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা হলেও খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ধরনের সংলাপকে সমর্থন করছে, কারণ এটিকে উত্তেজনা হ্রাস ও শান্তি বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কে সংলাপের এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে ৮টি আসন কম পেয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর ১৯টি আসন যোগ হলে দাঁড়ায় ৬৭টি — যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষের পক্ষেই সরকার গঠন সম্ভব নয় বলে খবরে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ইসরায়েলে নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখে কোনো দলনেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। এবার আরব দলগুলোর অবস্থানই নির্ধারণ করবে কার হাতে যাবে সেই দায়িত্ব।

নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তে মোসাদ

এদিকে ইসরায়েলের নির্বাচনে কাতার ও তুরস্কের হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্তে যোগ দিয়েছে মোসাদ। গতকাল (৩১ অক্টোবর) চ্যানেল ওয়ানের বুলেটিনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তদন্তে যুক্ত হয়েছে। এই অভিযোগ নির্বাচনী ফলের বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

১২০ আসনের কনেসেটে কোনো একক জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখন জোট সরকার গঠনের আলোচনাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। খবরে বলা হয়েছে, আরব দলগুলোর রেকর্ড ১৯টি আসন তাদেরকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত করেছে। নেতানিয়াহুবিরোধী অবস্থানের কারণে আরব দলগুলো বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠনের পথ খুলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইসরায়েলের নির্বাচনী অচলাবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের উদ্যোগ — দুটি ঘটনাই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই দুটি ইস্যুর অগ্রগতির দিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের। জোট সরকার গঠনের আলোচনা কত দ্রুত এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: যমুনা টেলিভিশন আই-ডেস্ক, আজকের পত্র, চ্যানেল ওয়ান বুলেটিন, চ্যানেল ২৪

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়। শালীন ও বিষয়ভিত্তিক থাকুন।

প্রকাশ করা হবে না।

আমরা নিজেদের প্রতিবেদনের জন্য পেজভিউ ও ভিজিট গণনা করি, তবে শুধু আপনি মেনে নিলে। না বললে গণনা বন্ধ থাকে। বিস্তারিত