শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের বিধিনিষেধে ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২,৭২১ যাত্রী

সৌদি বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ-সৌদি রুটে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২,৭২১ যাত্রী।

শেয়ার করুন
সৌদি আরবের বিধিনিষেধে ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২,৭২১ যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ-সৌদি রুটে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী।

ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এএসএম স্কোয়াড্রন লিডার সাকিবের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য জানা গেছে। ওই হিসাবে বলা হয়েছে, বাতিল হওয়া ১৫৯টি ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ৮২টি ও ট্রানজিট ৭৭টি ফ্লাইট রয়েছে। বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই বাতিল ফ্লাইটের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বলে ওই হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলের বিধিনিষেধের কারণেই এই ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। বিধিনিষেধ কতদিন বহাল থাকবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে খবরে বলা হয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণেই যাত্রীদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

কোন বিমান কত ফ্লাইট বাতিল করেছে

বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারলাইনসের ১৫টি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইটে আগে থেকে টিকিট কাটা যাত্রীরা এখন টিকিটের তারিখ বদল করে বিকল্প ফ্লাইটের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছুক হাজারো যাত্রী এই ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমানবন্দর ও টিকিটিং অফিসগুলোতে বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজে ঘুরছেন অনেক যাত্রী। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে খবরে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে। দুই দেশের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করায় এই রুটটি অন্যতম ব্যস্ততম রুট হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ করে এতসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোও চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

একসঙ্গে এতসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ও রিয়াদ এয়ারলাইনসের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের পুনর্বুকিং ও টিকিটের অর্থ ফেরতের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ বাড়ছে।

কর্মস্থলে যোগদান ও ভিসার মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান করতে না পারায় উদ্বেগে রয়েছেন। অনেকের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বাতিল ফ্লাইটের টিকিটধারী যাত্রীদের একটি বড় অংশই প্রবাসী কর্মী।

ছুটি শেষে সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় অনেক প্রবাসী কর্মীর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান করতে না পারলে ছুটি বাতিল বা বেতন কাটার মতো জটিলতায় পড়তে পারেন তারা, এমন আশঙ্কার কথাও বলা হচ্ছে। এদিকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদেরও একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। প্রতিবছর বড়সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী এই দেশে যান এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠান। ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হলে এই কর্মীদের যাতায়াতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিকেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি চললে নতুন কর্মীদের সৌদি আরবে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিধিনিষেধের এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে যাত্রীভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাতিল ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের জন্য কী বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: কাল প্রকাশ, ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়। শালীন ও বিষয়ভিত্তিক থাকুন।

প্রকাশ করা হবে না।

আমরা নিজেদের প্রতিবেদনের জন্য পেজভিউ ও ভিজিট গণনা করি, তবে শুধু আপনি মেনে নিলে। না বললে গণনা বন্ধ থাকে। বিস্তারিত