বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ষষ্ঠ বাংলাদেশ, পঞ্চম স্থান নির্ধারণীতে চীনের কাছে ৩–১ গোলে হার

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকির পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের কাছে ৩–১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। মোহালিতে ৪ নভেম্বর প্রথম কোয়ার্টারেই তিন গোল হজম করে লাল-সবুজরা, ফলে ষষ্ঠ স্থানেই শেষ হয় তাদের মিশন। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র পয়েন্ট ছিল চীনের বিপক্ষেই ১–১ ড্র।

শেয়ার করুন
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ষষ্ঠ বাংলাদেশ, পঞ্চম স্থান নির্ধারণীতে চীনের কাছে ৩–১ গোলে হার

প্রথম কোয়ার্টারেই তিন গোল হজম করে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লাল-সবুজরা, পুরো আসরে হজম ২৯ গোল

হিরো এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকি ২০২৬-এ পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের কাছে ৩–১ গোলে হেরে ষষ্ঠ স্থানেই শেষ করল বাংলাদেশের মিশন। বুধবার (৪ নভেম্বর) মোহালির অলিম্পিয়ান বলবীর সিং সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল হকি স্টেডিয়ামে প্রথম কোয়ার্টারেই তিন গোল হজম করে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লাল-সবুজরা।

ম্যাচের শুরুতেই প্রবল চাপে পড়ে বাংলাদেশ। খবরে বলা হয়েছে, প্রথম কোয়ার্টারে পরপর তিনটি গোল হজম করে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দলটি। রক্ষণভাগের ভুল এবং অপরিকল্পিত পজিশনিংয়ে চীনা ফরোয়ার্ডরা সুযোগ পেয়ে কাজে লাগায়। পরে একটি গোল শোধ করলেও তা শুধুই সান্ত্বনা হয়ে থাকে — জয়ের লড়াইয়ে ফেরা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষে চীন পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করে, আর ষষ্ঠ স্থান নিয়ে ঘরে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে।

হতাশার টুর্নামেন্ট: একটাই উজ্জ্বল মুহূর্ত

পুরো আসরেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। টুর্নামেন্টে মোট ২৯টি গোল হজম করেছে দল — যা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানের বড় ব্যবধান স্পষ্ট করে দেয়। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১৩–০ গোলে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ, যা আসরের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হারগুলোর একটি। এরপর জাপানের কাছে ১–০ গোলে হারের পর মালয়েশিয়ার কাছে ৬–১ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫–০ গোলে হারে লাল-সবুজরা। জাপানের বিপক্ষে মাত্র এক গোলে হারটাই ছিল দলের সবচেয়ে লড়াইমূলক পারফরম্যান্স।

তবে এই হতাশার আসরেও একটা উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল বাংলাদেশের। ২ নভেম্বর জলন্ধরে চীনের সঙ্গেই ১–১ গোলে ড্র করে দলটি — যা ছিল টুর্নামেন্টে তাদের একমাত্র পয়েন্ট। ওই ম্যাচে দ্বিতীয় মিনিটে চেন বেনহাইয়ের পেনাল্টি কর্নার থেকে চীন এগিয়ে গেলেও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। ৩৮তম মিনিটে অধিনায়ক আশরাফুল ইসলামের পেনাল্টি স্ট্রোকে সমতায় ফেরে দল — সেই ড্র-ই ছিল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য। দুর্ভাগ্যবশত, পঞ্চম স্থান নির্ধারণীতে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই ছন্দ আর ধরে রাখতে পারেনি দলটি।

খবরে বলা হয়েছে, চীনের বিপক্ষে দুই ম্যাচের মধ্যে এত পার্থক্যের পেছনে মূল কারণ ছিল শুরুর দিকে মনোযোগের অভাব। জলন্ধরের ম্যাচে গোল খেয়েও লড়াই করে ফিরেছিল দল, কিন্তু মোহালিতে প্রথম কোয়ার্টারের ধাক্কা আর সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি। প্রতিপক্ষ যখন প্রথম পনেরো মিনিটেই তিনবার বল জালে পাঠায়, তখন খেলার বাকি সময়টা কেবল ব্যবধান ধরে রাখার লড়াইয়ে পরিণত হয়। বাংলাদেশের মিডফিল্ড ওই সময় চাপের মুখে বল ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, ফলে রক্ষণে বারবার আক্রমণ আসে।

অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের জায়গায় এবারের আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বড় মঞ্চে এমন প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা দলের জন্য মূল্যবান — তবে ফলাফল এটাই বুঝিয়ে দিয়েছে, এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকতে রক্ষণভাগে অনেক উন্নতি প্রয়োজন। তিন গোলের পর প্রথম কোয়ার্টার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং দ্রুত খেলার ছন্দে অভিযোজনই ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বড় আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে — তবে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ঘরোয়া হকির অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের মান আরও উন্নত করা জরুরি। প্রতিযোগিতামূলক ফিক্সচারের অভাব, আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বল্পতা এবং রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা — এই সবই আসরজুড়ে প্রকটভাবে দেখা গেছে। ভবিষ্যতে ভালো ফলের জন্য এই জায়গাগুলোতে কাজ করা এখন সময়ের দাবি।

আজ (৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ও ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ। এর আগে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া, আর জাপানের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ শিবির এখন এই অভিজ্ঞতা পুঁজি করে সামনের আন্তর্জাতিক আসরের প্রস্তুতিতে মন দেবে বলে জানা গেছে।

সূত্র: সংবাদ সংযোগ, জাতীয় অর্থনীতি, বিএনিউজ২৪।

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

পাঠকের মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য সম্পাদকের অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়। শালীন ও বিষয়ভিত্তিক থাকুন।

প্রকাশ করা হবে না।

আমরা নিজেদের প্রতিবেদনের জন্য পেজভিউ ও ভিজিট গণনা করি, তবে শুধু আপনি মেনে নিলে। না বললে গণনা বন্ধ থাকে। বিস্তারিত